কি আছে ‘অপারেশন সুন্দরবন‘ সিনেমার গল্পে?
কি আছে ‘অপারেশন সুন্দরবন‘ সিনেমার গল্পে?

কি আছে ‘অপারেশন সুন্দরবন‘ সিনেমার গল্পে?

কি আছে ‘অপারেশন সুন্দরবন‘ সিনেমার গল্পে?

সময়টা ৫ জানুয়ারি ২০১৮ ঢাকাএট্রাক সফল্লে বেশ ফুরফুরে মেজাজে সময় কাটাচ্ছিলেন পরিচালক দীপঙ্কর দীপন।ঠিক রাত আটটায় তার ফোন বেজে উঠল রিসিভ করতেই শোনা গেল দীপঙ্কর তোমার জন্য একটা প্লট আছে অপারেশন সুন্দরবন।ফোনের ওপাস থেকে কথাগুলো বলছিলেন আমাদের বর্তমান আইজিপি ডক্টর বেনজীর আহমেদ।আনেকটা তার ছত্রছায়াতেই বেড়ে উঠেছিল ঢাকাএট্রাক নামের মাইলফলক সিনেমাটা আবার তিনি ভরসা রাখলেন পরিচালক দীপঙ্কর দীপন এর উপর দিলেন আরো বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট।আজ আই কন্টেনটে দেখবেন সুন্দরবনের প্রজেক্ট এর ভেতরে কি আছে প্রায় 30 কোটি টাকা বাজেটের সিনেমা তে কোন অভিযোগের ভিত্তিতেই বাড়ানো হয়েছে অপারেশন সুন্দরবন।
একটু পেছনে ফিরে যাই আমরা সেই মুঘল আমলের আগে থেকে শুরু করে এই কয়েক বছর আগ পর্যন্তও সুন্দরবনের জলদস্যুদের অভয়ারণ্য উপকুল এর মাঝি জেলে,মধু আর গোলপাতা সংগ্রহকারী সবাই ছিল জলদস্যুদের হাতে যিম্মি এত কষ্ট করে প্রান্তিক জনগণ যা ইনকাম করতো প্রায় সবটাই নিয়েছে জলদস্যুরা।এই অপরাধ শক্ত হাতে দমন করার সংকল্প নেয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১২ তে ডক্টর বেনজীর আহমেদকে প্রধান করে র‍্যাবকে নিয়ে গড়ে তুলেন টাস্কফোর্স।দীর্ঘ কয়েক বছরে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১লা নভেম্বর পুরোপুরিভাবে সাফল্য পায় এই ট্যাস্কফোরস। সুন্দরবনের তো সমুদ্র জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং তাদের পুনর্বাসন করে যেভাবে পরিপূর্ণভাবে দস্যু দমন হয়ে উপকুলের সস্তি ফিরে এসেছে তা সম্ভবত বিশ্বের মধ্যে বিরল। ভয়ংকর সুন্দর এই সুন্দরবনে অপারেশন পরিচালনা করতে গিয়ে র‍্যব বাহিনীকে যেতে হয়েছে অমানুষিক ঝুঁকির মধ্য দিয়ে, মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া থেকে শুরু করে সাপ,বাঘের ভয় সাথে নিয়ে দিনের পর দিন লড়াই করে গেছে জলদস্যুদের সাথে এমন কি শহিদও হয়েছে র‍্যব সদস্য।র‍্যবের এই ত্যাগ শুধুমাত্র মাস শেষে একটা বেতন এর জন্য নয়।এর মধ্যে জড়িত আছে দেশমাতৃকার প্রতি অপার ভালোবাসাও।
জাতি হিসেবে আমরা বিস্মৃতিপ্রবণ হয়তো কয়দিন পরেই মানুষ ভুলে যাবে এবং অর্জনের কথা ভাবতে সুন্দরবন হয়তো সবসময় এমন তো ছিল আরেকটা এরকম চিন্তা ভাবনা থেকেই র‍্যবের এই সাফল্ল গাথা কে সিনেমায় রুপ দিতে চেয়ে ছিলেন ডক্টর বেনজীর আহমেদ। এছাড়া আমাদের সিনেমার প্রতিরখ্যা বাহিনীকে এখনো সেকেলে হিসেবে দেখানো হয়।
সিনেমায় তাদের অসাধারন অপারেশন গুলো স্মারটলি চিত্রাইতো হয়নি এই সব পুরাতোন বেড়াজাল ভাংতে আসছে অপারেশন সুন্দরবন।
কিন্তু ডক্টর বেনজীর আহমেদ কখনই চাননি এটা যেন কোন ডকুমেন্টারি টাইপ সিনেমা হয় একটা পরিপূর্ণ বাণিজ্যিক সিনেমার মাধ্যমেই টাস্কফোর্সের মিশন একইসাথে সুন্দরবনের সৌন্দর্য দুইটাই তুলে ধরতে চেয়েছিলন তিনি।তাই পরিচালক দিপন যখন সিনেমাটা বাড়াতে রাজি হয় তখন আগে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় সুন্দরবনকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সেখানকার মানুষের সাথে মেশার,তাদের গল্প শোনার মাসের-পর-মাস সুন্দরবনের রিচার্জ করে দিপন এবং তার টিম একদিন প্রায় ৮০০ পাতার একটা পাণ্ডুলিপি জমাদেন ডক্টর বেনজীরকে এই প্রজেক্ট বানাতে কনভেঞ্ছ হন তিনি।
এরপর দীর্ঘ ছয় মাস ফ্রি প্রোডাকশনের কাজ শেষ করে ২০১৯ এর ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় শুটিং করনা পরিস্থিতির কারণে তিন মাসের শেষ হয় ১১ মাসে ওরকম সুন্দরবনের শুটিং ইউনিটের সবাইকেই কড়তে হয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম। ওই গহীন অরন্নতেও প্রায় ১৩০০ ব্যাগ্রাউন্ড আরটিস্ট নিয়ে কাজ করেছেন পরিচালক দিবন,এ যেন এক ইতিহাস।এই ২৩ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সুন্দরবন
23 ফেব্রুয়ারি হয়ে গেল অপারেশন সুন্দরবনের টিজার রিলিজ প্রোগ্রাম একইসাথে সিনেমাটা সংক্রান্ত একটা ওয়েবসাইট লঞ্চ করা হয়েছে এরকম জাঁকজমকভাবে সিনেমার টিজার্স লঞ্চ প্রোগ্রাম দেশের সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সিনেমাটার টিজারে দেখা গেল একজন তারকা ঝলক রিয়াজ,ছিয়াম,রোসান,তাসকিন রহমান আরো আছে নুসরাত ফারিয়া মনোজ প্রামাণিক সহ আছেন কলকাতার দর্শনা।
সিনেমায় বর্তমান হার্ডথ্রপ ছিয়ামকে দেখা যাবে কমান্ড চরিত্রে এবং নুসরাত ফারিয়াকে দেখা যাবে গবেষক হিসেবে।র‍্যাবের কোনো উর্দ্ধতর কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন রিয়েজ।
তবে সিনেমাপ্রেমীদের ধারণা ডক্টর বেনজীর এর ক্যারেক্টার রিপ্লে করবেন রিয়াজ।টিজারে কমান্ডো সিয়ামের তিখন চাহনি আর রোসানের হেলিকপ্টার থেকে নামার স্টাইল মাজ অডিয়েন্সদেরও আগ্রহী করে তুলবে।দের মিনিট ব্যাপি এই টিজারে সুন্দরবনে র‍্যাবের বিভিন্ন অপারেশনের আভাস দেয়া হয়েছে। দেখা গেছে আধুনিক,লজেস্টিক ক্যামেরা এবং অস্ত্র ব্যবহার।বেনজীর আহমেদ জানান র‍্যাব কর্তৃপক্ষ যেভাবে সাপোর্ট দিয়েছে এই সিনেমা গুলোকে সেগুলো যদি ভাড়া দিয়ে সিনেমাট বানাতে হতো তবে এর বাজেট দারতো ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা।কালার গ্রেডিয়েন্ট নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন তবে দিপন বলেছেন এখনো প্রচুর পোস্ট প্রোডাকশন এবং ভিএফএক্স এর কাজ বাকি। আশা করি আমরা ফাইনাল কাটে হাই কোয়ালিটির একটা একশন থিলার উপভোগ করতে পারব।
অপারেশন সুন্দরবন অনেক দিক দিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা র‍্যাবের শ্বাসরুদ্ধকর অপারেশন এবং সুন্দরবনের সৌন্দর্যের ব্যাপারে জানার পাশাপাশি এটা আধুনিক বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে একটা নতুন মেইলফলক হতে পারে।
এছাড়া আমাদের এই ভগ্ন ইন্ডাস্ট্রীকে আবার চাঙ্গা করতে এই সিনেমা চরম সাফল্লের কোন বিকল্প নেই।পরিচালকের ভাষাতেই বলতে হয় অপারেশন সুন্দরবন প্রকৃতিকে ভালোবাসার সিনেমা অপরাধকে উপড়ে ফেলা সিনেমা দেশপ্রেমের সিনেমা।এই সিনেমার পাশে দাঁড়ানো উচিত সকল বাংলা সিনেমা প্রেমইদের। সিনেমাটি বড় পরদায় রিলিজ হবে এই ঈধুল আজায়। আশা করা যায় ঢাকা এট্রাক এর মত আবার দেশ মাতাবেন অপারেশন সুন্দরবন।সেই শুভকামনা থাকছে।কমেন্ট এ জানান আপনার কাছে কেমন লেগেছে অপারেশন সুন্দরবন এর টিজার। কতটুকু আশা আছে আপনার এই সিনেমা নিয়ে?
শেষ করছি লেখাগুলো ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

মন্তব্য করুন